ইরান যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবহন এখন সর্বোচ্চে

চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে রেকর্ড পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর পর এটিই সর্বোচ্চ সরবরাহ। শিল্প খাতের নতুন উপাত্ত থেকে জানা গেছে, একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে নৌপথটি পুনরায় সচল করার পরই মূলত সামুদ্রিক যানচলাচল আকস্মিকভাবে বেড়েছে। খবর রয়টার্স।

তবে প্রণালিটি ঠিক কতদিন উন্মুক্ত থাকবে এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাই ব্যবসায়ী ও শিপিং কোম্পানিগুলো দ্রুত তাদের পণ্য ও জ্বালানি তেল এ অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। এ আশঙ্কার কারণেই কয়েক দিনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত হয়েছে।

সামুদ্রিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ কয়েক মাসের অচলাবস্থার পর এশিয়ার বাজারগুলোয় তীব্র চাহিদার কারণে চালান বাড়লেও সামগ্রিক নৌচলাচলের সংখ্যা এখনো অনেক কম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এ গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৫টি জাহাজ চলাচল করত। বর্তমান ট্রাফিক সেই তুলনায় একটি ছোট ভগ্নাংশ মাত্র।

তেল পরিবহন নজরদারি সংস্থা কেপলারের তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে চারটি বিশাল ট্যাংকার এ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এছাড়া একই দিনে আরো ৪০ লাখ ব্যারেল ইরানি জ্বালানি তেল নিয়ে দুটি পৃথক ট্যাংকার ওই এলাকা ত্যাগ করে। এর আগে গত বুধবার প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে ছয়টি ট্যাংকার সেই পথ দিয়ে যাত্রা করেছিল।

চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কেপলার উল্লেখ করেছে, এ পুনরুদ্ধার মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি ব্যবস্থার দ্রুত খাপ খাইয়ে নেয়ার সক্ষমতাকে প্রমাণ করে, তবে একে কোনোভাবেই যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক বাণিজ্যে ফিরে যাওয়া বলা যায় না।

বিশ্লেষকদের জন্য চালানের সঠিক পরিমাণ অনুমান করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের পাবলিক অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) ট্র্যাকার চালু রাখলেও বেশকিছু জাহাজ কোনো ধরনের ট্র্যাকার ছাড়াই চলাচল করছে। এতে সিগন্যালে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটা এবং অনেক জাহাজ ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের অবস্থান লুকিয়ে চলাচলের কারণে সম্পূর্ণ হিসাব পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

গ্রিসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অ্যালাইড শিপব্রেকিং জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি এখনো ঐতিহাসিক স্বাভাবিক নিয়মের চেয়ে বেশ নিচে রয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ৬০ দিনের এ সাময়িক চুক্তি তাৎক্ষণিক নৌঝুঁকি কমালেও অঞ্চলের গভীর ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করতে পারেনি।

মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট নিউইয়র্কে রয়টার্স গ্লোবাল এনার্জি ফোরামে নিশ্চিত করেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।

শিপিং লগ অনুযায়ী, দৈনিক ট্রাফিক বাড়লেও জাহাজের ক্যাপ্টেনরা প্রণালির কেন্দ্রীয় অংশ কঠোরভাবে এড়িয়ে চলছেন। বেশির ভাগ জাহাজ ওমানের উপকূল ঘেঁষে চলছে এবং ইরানের জলসীমা এড়িয়ে যাচ্ছে। ১৯৬৮ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক নির্ধারিত কেন্দ্রীয় করিডোরটি বর্তমানে সমুদ্রসীমার নিচে পুঁতে রাখা মাইনের কারণে সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের সম্ভাব্য পদক্ষেপের কারণে নৌচলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারছে না। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলের কাছে একটি কনটেইনার জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের সামরিক বাহিনী এ হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) উপসাগরে আটকে থাকা শত শত জাহাজ ও হাজার হাজার নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার মানবিক কার্যক্রমটি সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে।

আরও